ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের পূর্বাভাস

আগামী বছর বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের চাহিদা বাড়তে পারে ১.৩%

বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের চাহিদা আগামী বছর ১ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময় ধাতবপণ্যটির মোট ব্যবহার দাঁড়াতে পারে ১৭৭ কোটি ৩০ লাখ টনে।

বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের চাহিদা আগামী বছর ১ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময় ধাতবপণ্যটির মোট ব্যবহার দাঁড়াতে পারে ১৭৭ কোটি ৩০ লাখ টনে। সর্বশেষ শর্ট রেঞ্জ আউটলুক (এসআরও) শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন (ওয়ার্ল্ড স্টিল)। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।

ওয়ার্ল্ড স্টিল বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের চাহিদা চলতি বছর স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। এ সময় ধাতবপণ্যটির মোট ব্যবহারের পরিমাণ হতে পারে ১৭৫ কোটি টন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত।

ওয়ার্ল্ড স্টিলের ইকোনমিকস কমিটির চেয়ারম্যান ও স্পেনের স্টিল প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ আলফোনসো হিদালগো দে কালসেরাদা বলেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনা ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও ২০২৫ সালে ইস্পাতের চাহিদা নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ২০২৬ সালে চাহিদায় মাঝারি প্রবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে।’

তিনি জানান, এর পেছনে ভূমিকা রাখবে বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা, অবকাঠামো খাতে সরকারি বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা এবং আর্থিক নীতিতে কিছুটা শিথিলতার প্রত্যাশা।’

বিশ্বে ধাতবপণ্য ব্যবহারে শীর্ষ দেশ চীন। ওয়ার্ল্ড স্টিলের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ২০২৫ সালে ইস্পাতের চাহিদা আরো ২ শতাংশ কমতে পারে। ২০২১ সাল থেকে দেশটিতে চাহিদা কমছে মূলত আবাসন খাতের মন্দার কারণে। তবে ২০২৬ সালে চাহিদার এ পতন ১ শতাংশে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও ওয়ার্ল্ড স্টিলের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামনের দিনগুলোয় চীনে ইস্পাতের চাহিদা নিম্নমুখী থাকতে পারে। বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পরিবেশ আরো প্রতিকূল হলে উৎপাদন খাতে ইস্পাতের চাহিদা কমতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারগুলোর আর্থিক চাপ অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ সীমিত করতে পারে, যা সামগ্রিক চাহিদাকে আরো নিম্নমুখী করে তুলবে।

সংস্থাটি জানায়, চীনের বাইরে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ইস্পাতের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী ধারায় থাকবে। ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ৪ এবং ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়ার্ল্ড স্টিল। এর নেতৃত্বে থাকবে ভারত, ভিয়েতনাম, মিসর ও সৌদি আরবের মতো অর্থনীতি।

ভারতে ইস্পাত ব্যবহারের প্রবৃদ্ধি আগামী দুই বছরে প্রায় ৯ শতাংশ থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আগামী বছর ভারতে ইস্পাতের চাহিদা ২০২০ সালের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টন বেশি হতে পারে।

আফ্রিকায় ইস্পাতের চাহিদা দীর্ঘদিন সাড়ে তিন কোটি থেকে চার কোটি টনের মধ্যে থাকলেও ২০২৩ সাল থেকে তা বাড়ছে। উত্তর ও পূর্ব আফ্রিকায় নির্মাণ খাতের প্রবৃদ্ধির কারণে গত তিন বছরে বার্ষিক গড়ে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে চাহিদা বেড়েছে। ফলে ২০২৫ সালে মহাদেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।

উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোয় চলতি বছর ইস্পাতের চাহিদা টানা চতুর্থ বছরের মতো কমে আরো দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। তবে ২০২৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ওয়ার্ল্ড স্টিল জানায়, ইইউ ও যুক্তরাজ্যে ২০২৫ সালে ১ দশমিক ৩ এবং ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদহার হ্রাসের কারণে এ প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে ইস্পাতের চাহিদা ১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন শুল্ক আরোপের আগে উৎপাদন বাড়ানো ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি চাহিদা বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ২০২৬ সালেও একই হারে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকতে পারে।

আরও